Tue. Jun 15th, 2021

শাল্লায় ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের অবস্থা লেজে-গোবরে ! বাঁধে বালি ও কাদামাটি

শাল্লা প্রতিনিধি-
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ/মেরামত কাজের অবস্থা একেবারে লেজে-গোবরে দেখা যায়। উপজেলার ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের অধিন পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ও ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন এলাকার সবকটি বাঁধেই একই অবস্থা পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাঁধের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এলাকাবাসি।
সোমবার ২২ ফেব্রুয়ারী কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কল্যানপুর বাজার সংলগ্ন ১৫৩নং পিআইসি’তে গিয়ে সাইনবোর্ডের অর্ধেক অংশ পাওয়া যায়। দেখা মেলেনি পিআইসির সদস্যদের। হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিক বাঁধে কাজ করছেন। করা হচ্ছেনা কোনোরূপ কম্পেকশন। মানা হচ্ছেনা নির্ধারিত প্ল্যান ও ডিজাইন। ১৪৮নং পিআইসি’তে গিয়েও দেখা যায় একই অবস্থা। এখানেও মানা হচ্ছেনা বাঁধ নির্মাণের নীতিমালা। ওই বাঁধ এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্যামপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান ১৪৮ ও ১৪৭ নং পিআইসি দু’টি কোনো প্রয়োজনই ছিলনা। এদিক দিয়ে কোনো বছরই হাওরে পানি ঢুকেনা। কেন সরকারের টাকা খরচ করা হচ্ছে আমরা জানি না। বাঁধটির প্রয়োজন নেই বিষয়ে জানতে চাইলে ১৪৮নং পিআইসির সদস্য সচিব শতদয় সরকার বাদল বলেন, আমরা জানি না প্রয়োজন আছে কি না ? পানি উন্নয়ন বোর্ড এদিকে বাঁধ দিতে বলেছে আমরা বাঁধ করছি। এতে সরকারের টাকার কি হলো তা আমরা জানি না।
তাছাড়া ওই এলাকার সবকটি বাঁধ ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ বাঁধেই বালি মাটি দেয়া হচ্ছে। বাঁধে নেই কোনো প্রোফাইল, শ্রমিকরা হালকা হালকা বাঁশের টুকরো ও কাটের ছটি দিয়ে মাটি কম্পেকশনের কাজ করছে। যা সামান্য বৃষ্টি হলেই ধ্বসে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবার ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন এলাকার ১৩৮নং বাঁধে গিয়ে দেখা মিলেনি পিআইসি’র সদস্যদের। নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পিআইসি’র লোকজন বাঁধে আসেনি। তারা বাড়িতেই থাকে। আমার সারাদিন কাজ করি। বাঁধটি কাদা ও বালি মাটি দিয়ে করা হচ্ছে। পাশের ১৩৭নং পিআইসি’তে গিয়েও দেখা যায় আরো নাজুক অবস্থা। বাঁধের উপর অংশের প্রস্থও কোনো স্থানে ঠিক নেই। করা হচ্ছেনা কম্পেকশন, নেই কোনোরূপ স্লোভ ও সম্পুর্ণ বাঁধেই দেখা যায় বালি মাটি। যা বৃষ্টি হলেই ধ্বসে যাবে।
শুধু তাই নয়, কৃষ্ণপুর ও ধনপুর ইউনিয়ন দু’টির বাঁধে বাঁধে ঘুরে দেখা মেলেনি কোনো তদারকি কর্মকর্তার। এবিষয়ে এলাকাবাসি জানান, কি বলবো ভাই, এবছর পিআইসিরা যেভাবে কাজ করছে, তাতে আমাদের ফসলের কি হবে জানি না। তবে তারা এইটুকুও বলছেন যে, যদি অকাল বন্যায় তাদের ফসল তলিয়ে যায় তাহলে এর দায় সংশ্লিষ্ট পওর বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনকেই নিতে হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
এবিষয়ে দিরাই পওর-২ বিভাগের শাল্লা উপজেলা শাল্লা কর্মকর্তা ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাইয়ূম জানান, বার বার পিআইসি’দের তাগিদ দেয়া হচ্ছে বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য। আশা করা যাচ্ছে আগামি ৪/৫ দিনের মধ্যেই বাঁধে কাজ শেষ হবে। এরপরও তদারকি টীম বাঁধের কাজ পরির্দশনে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *