Tue. Jun 15th, 2021

শাল্লায় পিআইসি’র সাইনবোর্ডে সিন্ডিকেট: মুখ বন্ধ হাওর আন্দোলন নেতার

স্টাফ রিপোর্টার-

পদ-পদবীর নাম বিক্রি করেই বহুদিন ধরে চলছে ধাঁন্দাবাজি ও চাঁদাবাজি। সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেই ক্ষেপে উঠেন বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারির বিরুদ্ধে। এমনকি বাজার ব্যবসায়ীও ছাড় পায়নি তাদের রোষানল থেকে। একদিকে সাংবাদিকতার দাপট অন্যদিকে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের প্রভাবও পড়ছে নিরীহ ব্যবসায়ীদের উপর। তাও আবার অবৈধভাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি’র সদস্যরা যেকোনো স্থান থেকে বাঁধের সাইনবোর্ড বানানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু শাল্লায় ঘটছে এর ব্যতিক্রমী নীতি।
পদ পদবীর ভয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পিআইসি’র সাইনবোর্ডের কাজ দিতে বাধ্য হয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই সিন্ডিকেটের মুলহোতা হচ্ছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের শাল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জয়ন্ত সেন। তিনি সুনামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক সুনামকণ্ঠ পত্রিকার শাল্লা প্রতিনিধি। উনার আর্থিক অবস্থাও সচল নয়। ধাঁন্দাবাজির মাধ্যমে চলে তার সংসার। ক’দিন পর পরই গঠন করেন ভূঁইফোড় প্রেসক্লাব। আর প্রেসক্লাব গঠন করার মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের সাথে প্রতারণা। এদিকে সাইনবোর্ডের মাধ্যমে জয়ন্ত সেনের মুখ বন্ধ করে দিলেন শাল্লা পওর বিভাগ। শুধু এখানেই শেষ নয়। এই সাইনবোর্ড নিয়েও ঘটে গেছে আরো অনেক অজানা কাহিনী।
ঘুঙ্গিয়ারগাও বাজারে ব্যবসায়ী প্রিন্ট এইডের স্বত্ত্বাধীকারি রাখাল চন্দ্র দাস। তিনি এই ব্যবসার মাধ্যমে চালাচ্ছেন সংসার। পেটের তাগিদে সিদ্ধান্ত নিলেন পিআইসি’র সাইনবোর্ডের কাজ করবেন। দোকানের সামনে বিজ্ঞাপন দিলেন ”এখানে পিআইসির সাইনবোর্ডের কাজ করা হয়”। এই বিজ্ঞাপনটি সাংবাদিক জয়ন্ত সেনের নজরে আসে। তিনি রাখাল দাসের দোকানের পোস্টার, ব্যানার ও বিভিন্ন ফেস্টুন প্রকাশ্য দিবালোকে ছিড়ে ফেলেন সাংবাদিকতার দাপটে। আর রাখাল দাসকে হুমকি প্রদান করেন দেখে নেয়ার। কারন এই সাইনবোর্ডের কাজটি জয়ন্ত সেন সিন্ডিকেটে নিয়ে গেছেন। তাই রাখাল দাস নিরীহ মানুষ হওয়ায় আশ্রয় নেন আইনের কাছে। অভিযোগ করেন শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর। পরে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে মীমাংশা করা হয়। এসময় তিনি ভুলের জন্য রাখাল দাসের হাতে-পায়ে ধরে মাফও চান।
সাইনবোর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে শাল্লা পওর বিভাগের শাখা কর্মকর্তা ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম জানান, আমরা সিন্ডিকেটে সাইনবোর্ড দেইনি। ইচ্ছে করলে যে কেউ সাইনবোর্ডের কাজ করতে পারবে। তবে রাখাল দাসকে বাঁধা দেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা জয়ন্ত সেনের একান্ত বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *