Tue. Jun 15th, 2021

শাল্লায় এখনো শুরু হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ, শঙ্কায় হাওরপাড়ের কৃষক !

নিজস্ব প্রতিনিধি-

পাউবো’র নিয়ম অনুযায়ী সময় অতিক্রম করছে, তবুও সুনামগঞ্জের শাল্লার বেশ কয়েকটি ঝুকিপূর্ণ বাঁধে এখনো শুরু হচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ‘ফসল রক্ষা বাঁধ’ নির্মাণ কাজ। পওর বিভাগ থেকে বার বার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কোনো কর্ণপাত হচ্ছে না পিআইসির সদস্যদের। এদিকে কাজ শুরু না হওয়ায় শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সময় মতো কাজ শেষ না হলে আবারো ২০১৭ সালের মতো হাওরডুবির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট হাওরপাড়ের কৃষকরা। শুধু তাই নয় ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়েও চলছে ধীরগতি। ঢিলে-তালে কাজ শুরু হওয়াতে হুমকির মুখে রয়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল।
জানা গেছে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু ও ২৮ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ১১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ছায়ার হাওরের পিআইসি নং ৬১, ১৩২ ভান্ডাবিল হওরের পিআইসি নং ৫সহ আরো কয়েকটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় শঙ্কায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষক। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাওরাঞ্চলে ইতোমধ্যে বোরো ধানের চাষাবাদ শেষ হয়ে গেছে। উপজেলার সকবক’টি হাওরে পানি সময়মতো কমেছে। কিন্তু এখনো বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় কৃষকরা আছেন দুশ্চিন্তায়। তাদের বোরো ফসল অকালবন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে অতি শীঘ্রই কাজ শুরুর দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শাল্লা উপজেলা পাউবো অফিস জানিয়েছেন, এবার শাল্লা উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষক আহমদ হোসেন জানান, দুই-তিন বছর পর পর হাওরে ফসল ডুবির ঘটনা ঘটে। গত, তিনবছর ধরে হাওর তলিয়ে না গেলেও এবছর বন্যায় হাওর তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরো বলেন আবহাওয়া অদিপ্তরের পূর্বভাস অনুযায়ী এবছর অকাল বন্যার সম্ভাবনা বেষী। তাই সময় মতো বাঁধের কাজ শেষ না হলে সরকারে প্রচেষ্টা ও বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকাসহ কৃষকের উৎপাদিত বোরো ফসল জলে যাবে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে দ্রুত বাঁধের কাজ শুরু করার জন্য জরুরি সভা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল মুক্তাদির হোসেন। সভায় বাঁধের কাজ শুরু না হওয়া সকল প্রকল্পের সভাপতিকে দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন পওর বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তাকে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারীও প্রদান করেন তিনি।
শাল্লা উপজেলা শাখা কর্মকর্তা ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ওয়ার্ক অর্ডার দেয়ার সাথে সাথেই কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো কয়েকটি পিআইসি কাজ শুরু করেননি। বার বার বাঁধের কাজ শুরু করার কথা বললেও পিআইসি’র সদস্যরা কোনো নির্দেশনা মানছেন না। তাই সরজমিন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *