Tue. Oct 26th, 2021

আহবায়ক কমিটিতেই শাল্লা উপজেলা যুবলীগের ২৮ বছর পার

সুব্রত কুমার দাশ (বিশেষ প্রতিনিধি)

আহবায়ক কমিটি গঠনের ৯বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি আওয়ামীলীগের অঙ্গ-সংগঠন শাল্লা উপজেলা যুবলীগ শাখা। বর্তমানে কোন কমিটি না থাকায় স্থবির হয়ে আছে যুবলীগের শাল্লা শাখার যাবতীয় কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হলেও শাল্লায় যুবলীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে মাহবুব সোবহানী চৌধুরীর হাত ধরে। ১৯৯২ সালে মাহবুব সোবহানী চৌধুরীকে আহবায়ক করে ২১সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। মাহবুব সোবহানী চৌধুরী বর্তমানে বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বর্তমান উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি। এরপর ২০০১ সালে তৎকালীন সুনামগঞ্জ জেলা আহবায়ক অ্যাড. আব্দুল করিম জেলার অন্যন্যা উপজেলার ন্যায় শাল্লা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে দেন। এরপর ২০০৪ সালে মোঃ তকবীর হোসেনকে আহবায়ক ও পীযুষ দাসকে যুগ্ম আহবায়ক করে ২৮সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করে দেন তৎকালীন জেলা আহবায়ক অ্যাড. আব্দুল করিম। এরপর ২০১১ সালে মোঃ তকবীর হোসেনকে আহবায়ক এবং সাংবাদিক পীযুষ দাস ও দিপু রঞ্জন দাসকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৩১সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করেন তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। কমিটিকে ৩মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্নাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে বলা হয়। কিন্তু ৯বছর পেরিয়ে গেলেও বিগত আহবায়ক কমিটিগুলোর মত বর্তমান আহবায়ক কমিটিও পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে ব্যর্থ হয়।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, বিগত ৫বছর যাবৎ উপজেলা যুবলীগের কোন কমিটি না থাকায় সর্বশেষ আহবায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যই রাজনীতিতে নিস্ক্রিয়, যার ফলশ্রুতিতে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না, দলীয় গণতান্ত্রিক চর্চাও বিঘিœত হচ্ছে।
তরুন উদীয়মান যুবলীগ কর্মী অজয় তালুকদার, ফেনী ভূষণ সরকার, মোঃ ফখরুল ইসলাম ও অরিন্দম চৌধুরী অপু এপ্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে শাল্লায় যুবলীগের কোন কমিটি নেই। বিগত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়কদ্বয় সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে ব্যর্থ। শাল্লার যুবলীগকে সংঘটিত করতেও তারা ব্যর্থ। বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে তারা নিস্ক্রিয়। তাদের নিস্ক্রিয়তার বড় প্রমাণ যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে তারা কোন কর্মসূচী পালন করেননি। আমরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান অতিথি করে আলোচনা সভা ও কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছি। তারা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেননি। জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি যদি আমাদেরকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার দায়িত্ব দেয় তাহলে আমরা ৩মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিয়ে শাল্লা যুবলীগ প্রতিষ্ঠার ২৮বছর যাবৎ কমিটি না হওয়ার দুর্নাম গোছাব।
শাল্লা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড দিপু রঞ্জন দাস বলেন, দীর্ঘ ৯বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে না পারার ব্যর্থতার দায়ভার অবশ্যই আমাদের উপর বর্তায়। রাজনৈতিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা পারিনি। বর্তমানে আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িত। নতুনরা যদি পারে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

পীযুষ দাস বলেন, আমাদেরকে ব্যর্থ বলা ঠিক না। আমরা সম্মেলনের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। তখনকার উপজেলা আওয়ামীলীগের বিমাতাসুলভ আচরণের জন্য আমরা পারিনি। দলের দু:সময়ে আমরাই ছিলাম দলের বিভিন্ন কর্মসূচীর অগ্রভাগে। কিন্তু বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ দলের বিভিন্ন কর্মসূচীতে আমাদেরকে অবগত করেন না। তাই আমরা দলীয় কর্মসূচীতে নিস্ক্রিয়।
এবিষয়ে তকবীর হোসেন বলেন, ২০০৪ সালে আহবায়ক কমিটি হওয়ার পর বিএনপি সরকারের রোষানলে পরে ২১টি হয়রানি মূলক মামলার শিকার হয়েছিলাম। তারপর ২০১০ সালে এসে আমার রাজনৈতিক অভিভাবক প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সবগুলো মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেছিলেন। ২০১১ সালের পর আমার নেতার নির্দেশ মতো ৪টি ইউনিয়ন ও ৩৬টি ওয়ার্ড কমিটি করেছিলাম। সম্মেলনের প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও উনার অসুস্থতার কারণে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহবায়ক খায়রুল হুদা চপল বলেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে কিছুদিনের মধ্যেই শাল্লা যুবলীগের বিষয়ে কী করণীয় তা ঠিক করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *